বিশ্ব মানচিত্রের একটি পরিচিত নাম বঙ্গ বা বাংলা। ১৯৭১ সালে প্রাচীন ইতিহাসের ’বঙ্গ’ বাংলাদেশ নামে স্বাধীনতা লাভ করে।

বাংলা বা বঙ্গ নামের উৎপত্তিঃ ড. মোহর আলীর মতে, প্রাগৈতিহাসিক যুগে গঙ্গানদীর ভাটিতে গড়ে ওঠা জনপদ ‘বঙ্গ’ হতে ’বাংগালাহ’ বা বাংলা নামের উৎপত্তি হয়েছে।

১. ড. আব্দুর রহিম প্রমুখের মতে, বাংলা নামটি ইংরেজদের ‘বেঙ্গল’ বা পুর্তুগীজদের ‘বেঙ্গালা’ নাম থেকে নেওয়া হয়েছে। এই নামটিই তারা আধিপত্যবিস্তারের সময় এতদঞ্চলের নাম হিসেবে পেয়েছিল।

২. তারিখ-ই ফিরিশতায় প্রাচীন বাংলার নাম ‘বং’ বলে উল্লেক করা হয়েছে। মুসলিম ঐতিহাসিকদের অনেকের মতে, হযরত নূহ (আ.) এর অন্যতম উত্তর পুরুষ’বং’- এর বংশধর এতদঞ্চলে বসতি গড়ে তুলেছিল। সেই হতে বং+আল বা বংগাল নামকরণের সূচনা।

৩. অধ্যাপক মনসুর মুসা মহাভারত, পুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, অনার্য রাজা বলিরাজ এর রানি সুদ্রেঞ্জার গর্ভের সন্তান ‘বঙ্গ’- এর নামানুসারে এতদঞ্চলের নামকরণ করা হয় বলে উল্লেখ আছে।

৪. আবুল ফজলের মতে, ‘বাঙ্গালাহ’র আদি নাম ছিল ‘বঙ্গ’। প্রাচীনকালে এখানকার রাজারা ১০ গজ উঁচু ও ২০ গজ প্রকান্ড ‘আল’ নিমার্ণ করতেন, এ থেকেই ‘বাঙ্গাল’ বা ‘বাঙ্গালাহ’ নামের উৎপত্তি।

৫. ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার মনে করেন- প্রাচীনকাল হতে ‘বঙ্গ’ ও ‘বঙ্গাল’ দুটি পৃথক দেশ ছিল। ‘বঙ্গাল’ দেশের নাম হতেই কালক্রমে বাংলা নামকরণ করা হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, মোঘল যুগে এতদঞ্চলকে সুবাহ-ই-বাঙ্গালা নামকরণ করা হয়। পরবর্তী ইংরেজি আমলে ‘বেঙ্গল’ বলে পরিচিত ছিল। সুকুমার সেন এর মতে, ‘বঙ্গ’ থেকে ‘বঙ্গালা’ বা ‘বাঙ্গালা’র উৎপত্তি হয়েছে। মুসলিম শাসকেরা ‘বাঙ্গালাহ’ পুর্তগীজ ‘বেঙ্গালা’ এবং ইংরেজি ‘বেঙ্গাল’ হিসেবে এসেছে।